কক্সবাজার ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ :

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অংশীজন সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। সোমবার (২৫ আগস্ট) তিনি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিষয়ক সংলাপে বক্তব্য রাখবেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজতে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা।

রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উখিয়ার ইনানীর সেনাবাহিনী পরিচালিত বে-ওয়াচ হোটেলে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘টেকঅ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শিরোনামের এই সংলাপে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে মোট পাঁচটি অধিবেশন হবে। সেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তা, আশ্রয়শিবিরের মানবিক সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্মেলনকে ঘিরে কক্সবাজারে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার প্রবেশপথ, উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা ও ইনানী পর্যটন অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সদস্য। বিদেশি অতিথিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা রুট নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর ধারা ১৭(ক)(১) অনুযায়ী জেলার সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারীকে অবিলম্বে থানায় জমা দিতে হবে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস অভিযানের পর প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এ উদারতা প্রশংসিত হয়েছে, তবে আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত চাপ দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিন্তু মিয়ানমারের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দ্বিধানীতির কারণে আট বছরেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের এ সম্মেলনকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
৪৮ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অংশীজন সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। সোমবার (২৫ আগস্ট) তিনি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিষয়ক সংলাপে বক্তব্য রাখবেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজতে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা।

রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উখিয়ার ইনানীর সেনাবাহিনী পরিচালিত বে-ওয়াচ হোটেলে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘টেকঅ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শিরোনামের এই সংলাপে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে মোট পাঁচটি অধিবেশন হবে। সেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তা, আশ্রয়শিবিরের মানবিক সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্মেলনকে ঘিরে কক্সবাজারে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার প্রবেশপথ, উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা ও ইনানী পর্যটন অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সদস্য। বিদেশি অতিথিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা রুট নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর ধারা ১৭(ক)(১) অনুযায়ী জেলার সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারীকে অবিলম্বে থানায় জমা দিতে হবে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস অভিযানের পর প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এ উদারতা প্রশংসিত হয়েছে, তবে আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত চাপ দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিন্তু মিয়ানমারের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দ্বিধানীতির কারণে আট বছরেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের এ সম্মেলনকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।