বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট তৌকির ইসলামের দাফন আজ তার গ্রামের বাড়িতে
গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের দাফন আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) তার গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হবে।
বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তৌকিরকে শেষ বিদায় জানাতে আজ দুটি ফেয়ারওয়েল প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম প্যারেডটি যোহরের নামাজের আগে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এরপর তৌকিরের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে বগুড়া এয়ারবেজে নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে বিশেষ কনভয়ে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। জানাজা শেষে আসরের আগে বা পরে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যুদ্ধবিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। তৌকির প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন দিয়াবাড়ির জনশূন্য এলাকায় বিমানটি নামাতে। তিনি বলেন, “গতকালই ছিল তৌকিরের প্রথম একক মিশন। ডুয়াল ফ্লাইট শেষ করার পর তিনি একক ফ্লাইটে উড়াল দেন। কিন্তু টেকঅফের কিছুক্ষণ পর বিমানটি নিয়ন্ত্রণে থাকেনি। মোবাইল টাওয়ার থেকে ইজেক্ট করতে বলা হলেও এত নিচু উচ্চতায় তা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও জানান, তৌকির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দিয়াবাড়ির ফাঁকা স্থানে বিমানটি ফেলতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে আছড়ে পড়ে।
আইএসপিআর জানায়, গতকাল দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর বিমানটি যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে। এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে জানানো হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে জনবিরল এলাকায় সরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।










