কক্সবাজার ০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান জয়হীন অধ্যায়ের ইতি টানল বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদ :

২০১৬ সালের এশিয়া কাপে ৫ উইকেটে জয়ের পর থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয় খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৯ বছরের সেই জয়খরা কাটাতে এবার নতুন উদ্যমে নেমেছিলেন লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানরা। সিরিজ শুরুর আগে লিটন জানিয়েছিলেন, অতীত ভুলে সেরা ক্রিকেট খেলেই রেকর্ড ভাঙতে চান তারা। কথার প্রমাণ দিলেন মাঠে নামার প্রথম ম্যাচেই।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজ, তাসকিন আহমেদদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ—মাত্র ৭ রানে হারায় লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট। তবে তৃতীয় উইকেটে দায়িত্ব কাঁধে নেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। তাদের রেকর্ড জুটিতেই জয় নিশ্চিত হয়। হৃদয় আউট হলেও অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় তুলে নেন পারভেজ। ৭ উইকেটের জয়ে ৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ১১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ছিল বাজে। প্রথম ওভারেই পেসার সালমান মির্জার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড-অনে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ (১)। তিনে নামা লিটনও সুবিধা করতে পারেননি। সালমানের ষষ্ঠ স্টাম্পের দুর্দান্ত ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে ওয়াইড স্লিপে খুশদিলের হাতে ধরা পড়েন তিনিও (১)। পরের চাপ সামলাতে হৃদয় ও ইমন ছক্কা-চারে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেন। পাওয়ার প্লেতে তারা যোগ করেন ৩৮ রান।

নবম ওভারে আবরার আহমেদের বলে চার মেরে ৩৬ বলে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন হৃদয়। যদিও ওই ওভারেই উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ হারিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পান তিনি। অবশেষে আব্বাস আফ্রিদির গুড লেংথ বল খেলতে গিয়ে বোল্ড হন হৃদয় (৩৭ বলে ৩৬)। ইমনের সঙ্গে তার ৭৩ রানের জুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি, যখন দলটি ১০ রানের কমে ২ উইকেট হারিয়েছে।

হৃদয়ের বিদায়ের পর দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইমন, ফাহিম আশরাফকে ছক্কা মেরে মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

পারভেজ হোসেন ইমন-৩৯ বলে ৫৬ রান(অপরাজিত) ছবি:crickinfo

এর আগে টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই সুবিধা পায়। তাসকিনের হাতে সহজ ক্যাচ ফেললেও পরের ওভারেই তিনি সাইমকে (৬) ক্যাচ করান মুস্তাফিজের হাতে। তৃতীয় ওভারে শেখ মেহেদী কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও শেষ বলে হারিসকে ফিরিয়ে দেন। এরপর তানজিম হাসান সাকিব তুলে নেন সালমান আলী আঘাকে।

দলীয় পঞ্চাশ রানের আগেই হাসান নাওয়াজকে ফেরান মুস্তাফিজ। রান আউটের ফাঁদে পড়েন মোহাম্মদ নাওয়াজও। ইনিংসের ১০ম ওভারে ফখর জামান জীবন পেলেও কিছুক্ষণ পরই রান আউট হয়ে ফেরেন ৩৪ বলে ৪৪ রানে। শেষ দিকে খুশদিল ও আব্বাস মিলে রান একশ পার করলেও মুস্তাফিজের স্লোয়ারে (১৭) খুশদিলের বিদায়ে ভাঙে জুটি।

শেষ ওভারে তাসকিন টানা তিন বলে ফাহিম আশরাফ, সালমান ও আব্বাসকে ফেরান। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১১০ রানে। তাসকিন নেন ৩ উইকেট, মুস্তাফিজ ২ উইকেট। মাত্র ৪ ওভার বোলিংয়ে ৬ রান দিয়ে মুস্তাফিজ গড়েছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে মিতব্যয়ী স্পেলের রেকর্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:৫২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
১২৪ বার পড়া হয়েছে

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান জয়হীন অধ্যায়ের ইতি টানল বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৯:৫২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

২০১৬ সালের এশিয়া কাপে ৫ উইকেটে জয়ের পর থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয় খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৯ বছরের সেই জয়খরা কাটাতে এবার নতুন উদ্যমে নেমেছিলেন লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানরা। সিরিজ শুরুর আগে লিটন জানিয়েছিলেন, অতীত ভুলে সেরা ক্রিকেট খেলেই রেকর্ড ভাঙতে চান তারা। কথার প্রমাণ দিলেন মাঠে নামার প্রথম ম্যাচেই।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজ, তাসকিন আহমেদদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ—মাত্র ৭ রানে হারায় লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট। তবে তৃতীয় উইকেটে দায়িত্ব কাঁধে নেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। তাদের রেকর্ড জুটিতেই জয় নিশ্চিত হয়। হৃদয় আউট হলেও অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় তুলে নেন পারভেজ। ৭ উইকেটের জয়ে ৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ১১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ছিল বাজে। প্রথম ওভারেই পেসার সালমান মির্জার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড-অনে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ (১)। তিনে নামা লিটনও সুবিধা করতে পারেননি। সালমানের ষষ্ঠ স্টাম্পের দুর্দান্ত ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে ওয়াইড স্লিপে খুশদিলের হাতে ধরা পড়েন তিনিও (১)। পরের চাপ সামলাতে হৃদয় ও ইমন ছক্কা-চারে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেন। পাওয়ার প্লেতে তারা যোগ করেন ৩৮ রান।

নবম ওভারে আবরার আহমেদের বলে চার মেরে ৩৬ বলে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন হৃদয়। যদিও ওই ওভারেই উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ হারিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পান তিনি। অবশেষে আব্বাস আফ্রিদির গুড লেংথ বল খেলতে গিয়ে বোল্ড হন হৃদয় (৩৭ বলে ৩৬)। ইমনের সঙ্গে তার ৭৩ রানের জুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি, যখন দলটি ১০ রানের কমে ২ উইকেট হারিয়েছে।

হৃদয়ের বিদায়ের পর দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইমন, ফাহিম আশরাফকে ছক্কা মেরে মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

পারভেজ হোসেন ইমন-৩৯ বলে ৫৬ রান(অপরাজিত) ছবি:crickinfo

এর আগে টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই সুবিধা পায়। তাসকিনের হাতে সহজ ক্যাচ ফেললেও পরের ওভারেই তিনি সাইমকে (৬) ক্যাচ করান মুস্তাফিজের হাতে। তৃতীয় ওভারে শেখ মেহেদী কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও শেষ বলে হারিসকে ফিরিয়ে দেন। এরপর তানজিম হাসান সাকিব তুলে নেন সালমান আলী আঘাকে।

দলীয় পঞ্চাশ রানের আগেই হাসান নাওয়াজকে ফেরান মুস্তাফিজ। রান আউটের ফাঁদে পড়েন মোহাম্মদ নাওয়াজও। ইনিংসের ১০ম ওভারে ফখর জামান জীবন পেলেও কিছুক্ষণ পরই রান আউট হয়ে ফেরেন ৩৪ বলে ৪৪ রানে। শেষ দিকে খুশদিল ও আব্বাস মিলে রান একশ পার করলেও মুস্তাফিজের স্লোয়ারে (১৭) খুশদিলের বিদায়ে ভাঙে জুটি।

শেষ ওভারে তাসকিন টানা তিন বলে ফাহিম আশরাফ, সালমান ও আব্বাসকে ফেরান। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১১০ রানে। তাসকিন নেন ৩ উইকেট, মুস্তাফিজ ২ উইকেট। মাত্র ৪ ওভার বোলিংয়ে ৬ রান দিয়ে মুস্তাফিজ গড়েছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে মিতব্যয়ী স্পেলের রেকর্ড।